May 30, 2026, 7:31 am
গর্ভাবস্থায় রাতে অস্বাভাবিক গরম লাগার মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেক নারী। ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক লাগে এবং বিছানাপত্রও স্বাভাবিকই মনে হয়। কিন্তু ঘুমাতে গেলেই ঘটে বিপত্তি। তখন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে এবং শরীর যেন আগুনে পুড়ছে বলে মনে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার কারণে নারীদের রাতে গরম লাগতে পারে।
গর্ভাবস্থার শুরুতে কেন অতিরিক্ত গরম লাগে?
গর্ভাবস্থার শুরুতে শরীরে অনেক বড় পরিবর্তন ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ একটি হলো রাতে নারীদের গরম লাগার অনুভূতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী গর্ভবতী হলে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এই হরমোনগুলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, যা হট ফ্ল্যাশ এবং রাতে ঘামের কারণ হতে পারে। এসময় রক্ত প্রবাহ এবং বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই বেশি তাপ উৎপন্ন করে। যেহেতু ক্রমবর্ধমান শিশুকে সহায়তা করার জন্য শরীরকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, তাই এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়।
সিডিসি (CDC)-এর মতে, গর্ভাবস্থা নারীর শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। গর্ভাবস্থায় নারীর রক্তের পরিমাণ, হৃদস্পন্দন এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা সবই বৃদ্ধি পায়, যা তার কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
এটা কি চিন্তার বিষয়?
বেশিরভাগ নারীর জন্য এর উত্তর হলো- না। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে গরম লাগা স্বাভাবিক, এবং এটি অনাগত শিশুকে পুষ্টি জোগানোর জন্য শরীরের বর্ধিত প্রচেষ্টার কারণে হয়ে থাকে। অনেক নারীরই এসময় সকালে খুব ঘাম হয় বা রাতে ঘুম আসে না। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এটি একটি স্বাভাবিক এবং সাধারণ ঘটনা।
রাতে অতিরিক্ত গরম লাগা কীভাবে সামলাবেন?
* ঢিলেঢালা সুতির পরে ঘুমান। এ ধরনের কাপড় আপনাকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
* হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করুন।
* প্রচুর পানি পান করুন। শরীরে পানির উপস্থিতি শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
* শোবার ঘর অতিরিক্ত গরম যেন হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘুমানোর আগে ফ্যান চালান বা জানালা খুলে দিন।
* ঘুমানোর আগে মসলাদার বা ভারী খাবার খাবেন না। এটি শরীরের তাপ বাড়াতে পারে এবং শরীরে অতিরিক্ত তাপ ধরে রাখতে পারে।
* মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল তৈরি করুন। যোগব্যায়াম এবং ধ্যান স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
* প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদিও শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া সাধারণত কোনো সমস্যা নয়, তবে এর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু উপসর্গের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন জ্বর, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Leave a Reply